Archive for the ‘অ্যাকোয়ারিয়াম’ Category

অ্যাকোয়ারিয়াম পরামর্শ: দ্বিতীয় পর্ব

Wednesday, May 2nd, 2007

বেশ! ট্যাঙ্ক কত বড় হবে আর কোথায় রাখবেন ঠিক করে ফেলেছেন। এবার ঠিক করুন কি ধরনের অ্যাকোয়ারিয়াম আপনি চাইছেন! এর জন্য আপনাকে অনেকটাই নির্ভর করতে হবে আপনার নাগালের মধ্যে কি পাওয়া যাচ্ছে, আপনি কি রকম সময় দিতে পারবেন, কতটা খরচের কথা ভেবেছেন এবং কি ধরনের পরিবেশ আপনি পছন্দ করছেন তার উপরে। খুব মোটাভাবে, জলের উপাদানের তারতম্য অনুযায়ী, বাড়িতে রাখার অ্যাকো্যারিয়ামকে তিন ভাবে ভাগ করা যায়।

1. নোনা জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Salt Water Fish Tank)
2. মিষ্টি জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Fresh Water Fish Tank)
3. মোহনা জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Brackish Water Fish Tank)

1. নোনা জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Salt Water Fish Tank):

নোনা জলের মাছ মূলত: কোরাল রীফের বিভিন্ন মাছ যেমন বিভিন্ন সী অ্যাঞ্জেল, পাফার ইত্যাদি, অমেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে অ্যানিমোন, বিভিন্ন চিংড়ি ও কাঁকড়া এবং জীবিত প্রবাল এ ধরণের অ্যাকোয়ারিয়াম রাখা হয়। অবশ্য জীবিত প্রবাল সহ বেশ কিছু মাছ ও প্রাণী প্রায় সবদেশেই সংরক্ষিত ঘোষিত। বেশ কিছু প্রজাতির মাছ, সী হর্স ও প্রবাল শুধু বেআইনি পাচার ও ব্যবসার জন্য আজ অবলুপ্তির মুখোমুখি। যে কোনো প্রকৃতিবাদী অ্যাকোয়ারিস্টেরই দায়িত্বহয়ে ওঠে এ ধরণের সমস্যার প্রতিরোধ করা। কিছু সামুদ্্রিক শ্যাওলা ছাড়া নোনা জলের অ্যাকোয়ারিয়ামে গাছ রাখার প্রচলন কম। এ ধরণের অ্যাকোয়ারিয়াম একটু খরচ ও সময়সাপেক্ষ, কারণ মাছ ও ইকুইপমেন্ট - সবই ইষৎ দুর্লভ ও মূল্যবান। সী অ্যাঞ্জেল ও অ্যানিমোনের উজ্জ্বল বর্ণচ্ছটার জন্য এ ধরণের অ্যাকোয়ারিয়াম খুবই জনপ্রিয়।

2. মিষ্টি জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Fresh Water Fish Tank):

এধরণের অ্যাকোয়ারিয়াম সবথেকে বেশি জনপ্রিয়, এর নানা রকমের সৌন্দর্য, সহজলভ্যতা ও প্রতিপালনের সুবিধার জন্য। সাধারণত: দোকান বাজারে বাড়িতে আমরা এই ধরণের অ্যাকোয়ারিয়ামই দেখে থাকি। এই ধরণের অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখার জন্য মাছ ও গাছের অঢেল পছন্দ পাবেন। গোলড ফিশ, কার্প, মলি, গাপ্পি, সোর্ডটেল, বার্ব প্রভৃতি সাধারণ ও সহজলভ্য মাছ থেকে শুরু করে ডিসকাস, লোচ, সিকলিড, টেট্রা প্রভৃতি অপূর্ব রূপবান মাছেদের রাখা যায় এ ধরণের অ্যাকোয়ারিয়ামে। এ ধরণের ট্যাঙ্কে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছাড়াও অমেরুদন্ডীর মধ্যে র্যামসহর্ণ, অ্যাপল , মালয়েসিয়ান ট্র্যাপডোর - এ রকম দু’তিন প্রজাতির শামুক ও নানা ধরণের চিংড়িমাছও রাখা যেতে পারে।

3. মোহনা জলের অ্যাকোয়ারিয়াম (Brackish Water Fish Tank):

মোহনা অঞ্চলের ঈষৎ নোনা জলের মাছের জন্য এ ধরণের অ্যাকোয়ারিয়াম। স্ক্যাট, মোনো, স্পটেড পাফার, আর্চার ফিশ, সেইল-ফিন মলি, পাইপফশ, ইন্ডিয়ান গ্লাসফিশ, মালয়ান হাফবিক ও বিভিন্ন ধরণের কিলিফিশ রাখা যায় এধরণের অ্যাকোয়ারিয়ামে। জাভা মস, জাভা ফার্ণ, হাইগ্রোফিলিয়া পলিস্পার্মা প্রভৃতি গাছ এ ধরণের ট্যাঙ্কে রাখা চলে। এ ধরণের ট্যাঙ্কের জনপ্রিয়তা সাধারণের মধ্যে কম কারণ এর চাক্ষুস সৌন্দর্য অপেক্ষাকৃত কম ও এর পরিচর্যাও ঈষৎ কঠিন।

অ্যাকোয়ারিয়াম পরামর্শ: প্রথম পর্ব

Wednesday, April 4th, 2007

অ্যাকোয়ারিয়াম রাখার প্রাথমিক পাঠ:

আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামটি রাখার জায়গাটি ঠিক করে নিন সবার আগে। মাথায় রাখুন কিছু কথা:

1. এমন জায়গা বাছুন যেখানে সরাসরি রোদ আসে না, তবে একেবারে অন্ধকারও যেন না হয়। ঘরের বাইরে যেখানে রোদ্দুর এসে পরে, সেখানে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখা বাঞ্ছনীয় নয়, কারণ আপনার মাছ ও গাছ তাতে হই হই ক’রে বাড়লেও, অ্যালগির কারণে আপনার ট্যাঙ্কের জল গাঢ় সবুজ হয়ে যাওয়ায় আপনি কিছুই দেখতে পাবেন না। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যেোজ্জ্বল ট্যাঙ্কের সৌন্দর্য বজায় রাখার একটি মূল চাবিকাঠি স্বচ্ছ জল ।

2. বাড়ির যে অংশে লোকজনের চলাফেরা বেশী সে স্থান পরিহার করার চেষ্টা করুন। লোকের চলাফেরার অসুবিধা তো হবেই, এমনকি বারে বারে সামনে দিয়ে লোক যেতে দেখলে আপনার মাছগুলি চমকে গিয়ে বার বার ছোটাছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়বে সহজে এবং নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে ধীরে ধীরে।

3. ছোটো নয়, ফিসট্যাঙ্ক বা অ্যাকোয়ারিয়াম কিনুন আপনার স্থান ও সাধ্য অনুযায়ী যা সবথেকে বড় হতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার মতোই আপনার মাছও ছোটো জায়গায় আবদ্ধ থাকতে পছন্দ করে না। ফিস বোউল বা বোতল বা বয়াম - এ ধরনের ছোটো পাত্র ব্যবহার করা সাধারণতঃ বাঞ্ছনীয় নয়। বড় অ্যাকোয়ারিয়ামের ঝামেলা বেশী , ছোটো অ্যাকোয়ারিয়ামে কম - একথা একদম ঠিক নয়, বরং এর ঠিক উলটোটি ঠিক। যত বড় অ্যাকোয়ারিয়াম, তত তার পরিচর্যা সুবিধাজনক ।

4. আপনার বাড়িতে শিশু বা কোনো পোষ্য থাকলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, অ্যাকোয়ারিয়াম যেন তাদের নাগালের বাইরে থাকে।

5. মাথায় রাখুন ইলেকট্রিক পয়েন্টের কথা। যেখানে ট্যাঙ্কটি রাখবেন তার কাছাকাছি কমপক্ষে দুটি বা অবস্থাভেদে তার থেকেও বেশী প্লাগপয়েন্টসহ সুইচবোর্ড প্রয়োজন হবে আপনার।

জনার্দনের প্ল্যান্টেড ট্যাঙ্ক

Friday, March 23rd, 2007

জনার্দনের প্ল্যান্টেড ট্যাঙ্ক
[2003]

[Freshwater Planted Aquarium; 48″x18″x18″; 3 Watt/Gallon; pH 7-7.5; 26-28 Degree Centigrade; Substrate: Laterite and Gravel; Fertilization: KNO3+K2SO3+MgSO3+Micro Nutrients]

[জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিনিধিকে জানান যে সারা রাত দনাদ্দন ট্যাঙ্কের শব্দে দু’চোখের পাতা এক করতে পারে নি এলাকার মানুষ আর এখন খবরে আরো প্রকাশ পেতে থাকে সমগ্র এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোলাবর্ষণ ও ট্যাঙ্কের এই মর্মান্তিক দনাদ্দন দনাদ্দন আওয়াজ কাঁচ ও জল পেরিয়ে এদিকে এলে অংশত মোলায়েম হয়ে পরে]

… আর আমার নাম জনার্দন হয়ে যেতেই জনার্দন জলগাছাদের গায়ে নরম নরম বুলিয়ে দিতে থাকে তার সরু আঙুলের ছাপ এবং জনার্দনের নখের কোনে, কাঁচে ও পুরনো বাটিতে জমে থাকতে থাকা বিবিধ লবণের রঙ বিবিধ হলেও দেখা যায় সকলেই এক - একমাত্র সাদা। অতএব এরপর থেকেই জনার্দনের চোখের নীচে পড়ে থাকে জল আর জলের মতো সবুজ ও গুটিয়ে রাখা রেখাপত্তর, আঁটি। আর জনার্দন নিজে নিজেই প্রতিদিন বোতলে বোতলে গুনেগেঁথে গুছিয়ে তুলতে থাকে গাভীন শামুকের মতো জনার্দনের দৈনন্দিন শাকগুটি ও তার এলোমেলো ছিপির অংক, বুদবুদ। আর ওয়াও!! উইদিন আ উইক অর সো, জনার্দন জনার্দনের আঙুলের ফাঁকে, শিকড় থেকে বের করে একে একে জনার্দনকে, জনার্দনের রেখাপত্রে, বালিতে ও পুরনো কাঠেও।*


*আমার অ্যাকোয়ারিয়ামগুলি ও তাদের বাসিন্দা জলগাছারা আমাকে এতটাই প্রভাবিত করে যে, 2003 সালের মাঝামাঝি এক দুর্বল মুহূর্তে, আমি পূর্বজন্মের কোনো সাংস্কৃতিক পাপবশতঃ অ্যাকো্যারিয়াম নিয়ে একটি গদ্যে লেখা মহাকাব্য লিখতে উদ্যত হই। লেখাটি শেষ না হলেও শুরু হয়। আর এই অব্দি লেখার পরেই ইরাকে যুদ্ধু লাগে, আমার বিবেক জেগে ওঠে ও আমি খান্তি দেই।

এ প্রসঙ্গে আমার আ্যাকোয়ারিয়ামের কিছু ছবি দেখানো যায়। হয়তো উপরের লেখাটির সঙ্গে আ্যাকোয়ারিয়ামের কিছু ছবি দেখলে ছবিগুলি বোঝা সহজ হতে পারে।

Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Nature Tanks
Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Taboo Island
Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Secret Shore

আমার অ্যাকোয়ারিয়াম আর জলবাগিচার আরো ছবি »
আমার অ্যাকোয়ারিয়াম ব্লগ »

গাপ্পি

Monday, March 12th, 2007

Guppy in Samit’s Nature Tank

আমার অ্যাকোয়ারিয়াম ব্লগে গাপ্পি নিয়ে একটা ছোটো অথচ কেজো পোস্ট মারলাম। লাইভ বীয়ারার (live bearer) অর্থাৎ ডিম না পেড়ে সরাসরি বাচ্চা দেয়, এরকম মাছেদের মধ্যে গাপ্পি আমার বেশ মন-পসন্দ কিসিমের। ছোটোবেলায়, করপোরেশনের লোক মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য পাড়ার নর্দমায় গাপ্পি আর গ্যাম্বোশিয়া মাছ ছাড়তো এন্তার আর সেই মাছগুলির মধ্যে অতিরিক্ত কৌতুহলী যারা তারা হাজির হতো আমার পড়ার টেবিলের উপর, কাঁচের বয়ামে। গাপ্পি মাছেদের জেনেটিকাল লুচ্চামীর কারণে, শীঘ্রই বোতলে বা বয়ামে দেখা দিত খুদে খুদে মাছের ছানা। ব্যাস, মুগ্ধতার শুরু। গাপ্পি প্রজননের সময়ে জিনরহস্যের যে আজিব খেল ও অঙ্ক দেখা যায়, তা অবশ্য তখনো বুঝি নি।

মূল পোস্ট ও পোস্টের সঙ্গে সেঁটে দেওয়া ছবিটি দেখা যেতে পারে এইখানে। পোস্টের সঙ্গের ছবিটি আমার আধো-কালো (Half Black) মাদী গাপ্পির মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণা নমুনাটির।

ক্রিপটোকোরি্‌স

Saturday, March 10th, 2007

Crypts in Samit’s Nature Tank

আমার অ্যাকোয়ারিয়াম ব্লগে যোগ হলো ক্রিপটোকোরিন প্রাজাতির গাছ নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি। ক্রিপটোকোরিন মিঠে জলের অ্যাকোয়ারিয়ামে যে সকল গাছরাখা হয় তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় প্রজাতিগুলির একটি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, শ্রীলংকা এবং দক্ষিণ ভারতের মিঠেজলের নদী, জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ক্রিপটোকোরিনের দেখা মেলে, প্রচুর পরিমানে। স্বভাবগতভাবে দলবদ্ধ থাকতে আগ্রহী এই প্রজাতিটিকে, প্রায়শঃই অগভীর জলাভূমি, ক্ষীণতোয়া জলধারার মাঝে নিজ নিজ পরিবারবর্গের সাথে সঙ্ঘবদ্ধভাবে জাঁকিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ইন্টারনেটে ক্রিপটোকোরিন প্রাজাতি সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য পাওয়া যেতে পারে এইখানে - The Crypts Pages

কোরিডোরাস জুলি

Friday, March 9th, 2007

Coydora julii

কোরিডোরাস জুলি বা জুলি কোরি ওরফে লেপার্ড কোরি (Corydoras julii) ভারী ঠান্ডা স্বভাবের, নিপাট ভালোমানুষ গোছের এক প্রকার মাছ। জাতে, মাগুরের জাতভাই। সাইজে ইঞ্চিখানেক। সাদা-কালো ডোরাকাটা বাহারী চেহারা। থাকে ভাই-বেরাদরদের সঙ্গে দল বেঁধে। একা রাখলে বিষন্ন সন্ধের মতো আড়ালে লুকিয়ে থাকে, ভালো থাকে না। খাবার, খুঁটে খায় আর পছন্দ করে গোপনীয়তা ।

আমার অ্যাকোয়ারিয়াম ব্লগে, ছবিসহ কোরিডোরাস জুলি »