কিচাইনগাথা
Sunday, March 16th, 2008কিচাইনগাথা
[2006]
কিচাইনগাথা: এক
এইভাবে ক্লিক্ফাঁদে দীওয়ানা হলে সত্যিই বড় ঝট্কা লাগে এসকল নেটযাপন, যেখানে নখাগ্রে ঝিলিক দেয় তামাম দুনিয়া আর মুখ ও মুখের বিকল্পে মুখোশ ও মুখোশেরও বিকল্পে পুনরায় অন্য মুখের ভীড়ে উড়ে যায় আমাদের সামাজিকতার টুপি ও খোলাচুল এই মেঘবন্দরে ছেয়ে যায় চামচা আকাশ। আমরা ভালো থাকি অথবা এভাবেই দাবী করি আমাদের ভালো থাকার সম্ভাবনাসমূহ সুতলিবদ্ধ পুত্তলিকাবৎ হাতে কাপড়ের তলোয়ার আর রাংতার মাথামুকুটে নাচতে থাকে গোপন ইশারার মতো রাষ্ট্রযন্ত্রের অনর্গল তাগিদে। অথচ দ্যাখো, এই প্রাঙ্গনে যেন অন্য কথা ছিলো, কথা ছিলো এবারে আমরা সকলে সিনেমা দেখবো পর্দার উলটো পিঠে আলোকিত থিয়েটারহলে সেইসব চাপা ও কৃষ্ণবর্ণ ছবিগুলি, মানুষের নজর থেকে বেরিয়ে আসা সাদা হলুদ বা কমলা কোনো রোদ না পেয়ে যেগুলি এখন শুকনো ও পাটল। এরকমই যেন কথা ছিলো তবে কার কথা কে ও কবে দিয়েছিলো সে প্রশ্নে এমনকি এ দামড়া আকাশব্যাপী আমাদের নিরন্তর তথ্যযাপনেও কোনো উত্তর থাকে না। ফলে এ চামচক্রান্তে যোগ দেয় প্রযুক্তিস্নেহ, আর মোয়া আসে চমৎকার, জনপ্রতি এক বা দুই, দিগন্ত জুড়ে দেখা যায় আমাদের হাসি হাসি মুখ, যা কিনা ঘন ক্লোজআপে কিছুটা কৃতার্থ করজোর তেলতেলে শব্দেঘেরা সেই হারামী ভাস্কোর জাহাজের পোঁ শোনা থেকে।
কিচাইনগাথা: দুই
জামার হাতা গুটিয়ে কনুইয়ের উপর তুললেই চামড়া কিছুটা সাদাটে ও ফ্যাকাশে যেন রোদ না লাগায় রংগুলি হারিয়ে গ্যাছে ইঁটচাপা ঘাসে। ফলে বারংবার মনে হয় আমরা সকলেই প্রকৃতপ্রস্তাবে ফর্সা ও কর্কটক্রান্তির চড়া রোদে কিছুটা তামাটে মাত্র ভাগ্যদোষে। এবিধ চিন্তা এলেই তৎক্ষণাৎ মেরুদন্ড বেয়ে শির শির ওঠানামা করে চামড়া ও ঘামের রঙসংক্রান্ত এ সুপ্রাচীন ছেনালীগাথা, রূপোর মোড়কে যার চাবুক থেকে সাবানের ফেনা ঘষে উঠে আসে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর প্যাকেট ও তার সাদা আদিখ্যেতার চিট্চিটে ঘাম। আমাদের কেল্টি চামড়া লোভী অথচ পোষা ফলতঃ লালায়িত কুকুরের মতো বারবারান্দায় বাতিল ডগবিস্কিট খায় গুটোনো লেজ নাড়ে আনুগত্যে ভারী হয়ে ওঠে তার রোঁয়া ও চেনবকলেস আর এ অবশ্যম্ভাবী মেলানিনচক্রের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে যেন কোনো রুগ্ন বেশ্যা সন্ধ্যের ল্যাম্পপোস্টের নিচে সস্তা প্রসাধনের রিবেটে মুছে ফেলে নামধাম, তার বাড়ির ঠিকানা। এ চামচেতনায় বিষাক্ত পাখির ছায়া বাসা বাঁধলে গোপন ছুরির মতো আস্তিন থেকে বেরিয়ে পড়ে বাণিজ্যজাহাজের ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে রাখা সাদা স্বভাবগুলির সোনালী হারামিপনা ও পিজারোর নাম লেখা বোতলবন্দী চিঠি ও সনদ, যা দেখে আমাদের চামড়ার বয়স কেঁপে ওঠে মোমবাতির ছিবড়ের মতো পড়ে থাকে শুধু আমাদের লেহনলিপ্সা, আমাদের চামচেতনা, ভয়।