Posts Tagged ‘Bengali’

খুন শব্দে শব্দের খুন

Saturday, March 1st, 2008

খুন শব্দে শব্দের খুন
[2007]

এক সহৃদয় মানুষের কাছ থেকে শব্দ খুন করার কায়দা শিখে নিতেই - আর্তনাদ শুরু হয়; কী-বোর্ডে ও সেই হেতু স্ক্রীনেও। বোঝা যায় অলরেডী আতাক্যালানে দুটো-চারটে শব্দরা খুন হচ্ছে এ’পাতা ও’পাতায় আর বাওয়ালবিধির ব্যাকরণ বইয়ে বানানবিধির বাওয়ালী হ’লে, শব্দের ন্যাড়া লাশে ভেসে যাচ্ছে ভাষা ও নোটবই, তার ক্যাবলা আকাশ। ফলে, অনেকেই খুন চাইছে খুন শব্দে শব্দের খুন, খুনী বোতামের মতো, খট খট খট খট - শব্দের ব্যাকস্পেসে খুনী শব্দের খুন করছে বেছে বেছে।

সে শব্দে আসলে শব্দের খুন। সে শব্দ আসলে শব্দ খুনের শব্দ।


এই লেখাটি স্বাধীন নয় ও অনেকটাই পূর্ব প্রসঙ্গের উপর নির্ভরশীল, যে প্রসঙ্গ আবার এ প্রসঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। লেখাটি কোনো এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা, যেখানে ভুল বানানের শব্দগুলিকে খুন করে, তাদের জায়গায় ঠিক বানানের শব্দগুলিকে আনার কথা বলা হয়েছিলো। চরিত্র নয়, লেখাটির গঠনটি ভালো লেগে গেছিলো বলে এটি জমা পড়লো এই লেখালিখির খাতায়

তাৎক্ষণিক তাৎপর্যমন্ডিত ও পূর্বানুসঙ্গনির্ভর এই লেখাটি আদিতে লেখা হয়, সামহোয়্যারইনব্লগে ‘একটি বাংলা ব্লগকথায়’ , 2007 সালের 8ই মে তারিখে। দুই চারিটি কাব্যময় মন্তব্যের সহিত আদি লেখাটি পড়ার জন্য ক্লিক করা যেতে পারে এখানে

হাতের লেখা

Monday, January 28th, 2008

ডাকে কিছু কবিতা এলো। ফুলস্কেপ কাগজে লেখা হাত ও কলম। ঘোরানো ঘরোয়া শব্দের মাথাগুলি গোল হয়ে উঠে বা কখনো নেমে, পরষ্পরের কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে, যেন ভাঁজ করা পাতার এলোপাথারি মাঠজুড়ে সাঁওতালি নাচ জমেছে খুব চাঁদের আলোয়। মাঝে মাঝে কিছু দর্শনার্থী, ট্যুরিস্ট লালে লেখা হেড লাইন, দিকনির্দেশ, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

এসব দৃশ্য দেখে ছোটোবেলার সেই হাতের লেখার কথা মনে হয় যে রোজ বিকেলে গল্প করতে আসতো সান্টুদের বাড়িতে আর সন্ধে হলে রুলটানা খাতার বারান্দায় বসে ঢুলে ঢুলে নামতা পড়তো চাপাসুরে। ছোটোবেলার ঠিক পরের বেলায়, যেদিন ‘স’ ‘জ’ ও ‘ম’ লেখার কায়দা বদল হয়, সেদিন এই ছোটোবেলার হাতের লেখা খুব দুঃখ পায় ও সারারাত অঙ্কখাতার পেছনের রাফ করার পাতায় বসে বসে মিহিসুরে কাঁদে। পরদিন সকাল থেকে তাকে আর দেখা যায় নি, শুধু একবার ছাড়া। তখন মেজোবেলার হাতের লেখার রমরমা। তার ঠাট কায়দায় ছোটোবেলার হাতের লেখার কথা মিলিয়ে যায় অচিরেই।

এর অনেকদিন পরে, যখন বড়বেলার হাতের লেখাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়ে হাতের লেখার বাড়িতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখন, ইনফ্যাক্ট তখনি শুধু একবার, ছোটোবেলা, মেজোবেলা ও বড়বেলার তিন হাতের লেখাকে পরষ্পরের গলা জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। সেই শেষ। তারপরে তাদের কাউকে আর দেখা যায় নি।

আজ ডাকে আসা কবিতা দেখে তিনজন হাতের লেখার কথাই মনে পড়ে বার বার।

জনার্দনের প্ল্যান্টেড ট্যাঙ্ক

Friday, March 23rd, 2007

জনার্দনের প্ল্যান্টেড ট্যাঙ্ক
[2003]

[Freshwater Planted Aquarium; 48″x18″x18″; 3 Watt/Gallon; pH 7-7.5; 26-28 Degree Centigrade; Substrate: Laterite and Gravel; Fertilization: KNO3+K2SO3+MgSO3+Micro Nutrients]

[জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিনিধিকে জানান যে সারা রাত দনাদ্দন ট্যাঙ্কের শব্দে দু’চোখের পাতা এক করতে পারে নি এলাকার মানুষ আর এখন খবরে আরো প্রকাশ পেতে থাকে সমগ্র এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোলাবর্ষণ ও ট্যাঙ্কের এই মর্মান্তিক দনাদ্দন দনাদ্দন আওয়াজ কাঁচ ও জল পেরিয়ে এদিকে এলে অংশত মোলায়েম হয়ে পরে]

… আর আমার নাম জনার্দন হয়ে যেতেই জনার্দন জলগাছাদের গায়ে নরম নরম বুলিয়ে দিতে থাকে তার সরু আঙুলের ছাপ এবং জনার্দনের নখের কোনে, কাঁচে ও পুরনো বাটিতে জমে থাকতে থাকা বিবিধ লবণের রঙ বিবিধ হলেও দেখা যায় সকলেই এক - একমাত্র সাদা। অতএব এরপর থেকেই জনার্দনের চোখের নীচে পড়ে থাকে জল আর জলের মতো সবুজ ও গুটিয়ে রাখা রেখাপত্তর, আঁটি। আর জনার্দন নিজে নিজেই প্রতিদিন বোতলে বোতলে গুনেগেঁথে গুছিয়ে তুলতে থাকে গাভীন শামুকের মতো জনার্দনের দৈনন্দিন শাকগুটি ও তার এলোমেলো ছিপির অংক, বুদবুদ। আর ওয়াও!! উইদিন আ উইক অর সো, জনার্দন জনার্দনের আঙুলের ফাঁকে, শিকড় থেকে বের করে একে একে জনার্দনকে, জনার্দনের রেখাপত্রে, বালিতে ও পুরনো কাঠেও।*


*আমার অ্যাকোয়ারিয়ামগুলি ও তাদের বাসিন্দা জলগাছারা আমাকে এতটাই প্রভাবিত করে যে, 2003 সালের মাঝামাঝি এক দুর্বল মুহূর্তে, আমি পূর্বজন্মের কোনো সাংস্কৃতিক পাপবশতঃ অ্যাকো্যারিয়াম নিয়ে একটি গদ্যে লেখা মহাকাব্য লিখতে উদ্যত হই। লেখাটি শেষ না হলেও শুরু হয়। আর এই অব্দি লেখার পরেই ইরাকে যুদ্ধু লাগে, আমার বিবেক জেগে ওঠে ও আমি খান্তি দেই।

এ প্রসঙ্গে আমার আ্যাকোয়ারিয়ামের কিছু ছবি দেখানো যায়। হয়তো উপরের লেখাটির সঙ্গে আ্যাকোয়ারিয়ামের কিছু ছবি দেখলে ছবিগুলি বোঝা সহজ হতে পারে।

Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Nature Tanks
Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Taboo Island
Creative Aquascapes and Nature Aquariums by Samit Roy
From Secret Shore

আমার অ্যাকোয়ারিয়াম আর জলবাগিচার আরো ছবি »
আমার অ্যাকোয়ারিয়াম ব্লগ »

ভ্রমণকাহিনী

Friday, March 9th, 2007

ভ্রমণকাহিনী
[2004]

এক:

আমাদের শষ্যক্ষেত্র ভারী হচ্ছে তখন আর বন্দর পেরোলেই একে একে আলোকস্তম্ভ পথ ও বৃক্ষসমূহ ঝুঁকে পড়ছে রাত্তিরে, পাষাণ ল্যান্ডস্কেপে। হাওয়ার জানলায় কাঁচ লেগে গেলে দেখা যাচ্ছে প্রায় চৌকো এক একটি বাক্স জুড়ে কিভাবে টুপ্ টুপ্ ক’রে অন্ধকার জ্বলে উঠছে দেখা না যাওয়ার মতো দূরত্বের দিগন্তে। একটু এগোলেই আলপথ বরাবর ডানদিকে ওৎ পেতে বসে থাকছে পাথর, ঠান্ডা, অনেকটা পাহাড়ের মতো ছোপ ফেলছে মাঠশেষে অন্ধকারে কালো কালো পাহাড় বলে মনে হতে পারে ব’লে। ধাবা ও সীমান্তের গ্রাম থেকে হঠাৎ হঠাৎ লন্ঠন ছল্কে মুহূর্তেকের জন্য চলে আসছে সরকারী বিদ্যুৎ আর পরের জনপদ শুরু হওয়ার কথা হলে জেগে থাকছে নক্ষত্রপুঞ্জ, স্থির ও মাটির কাছে নেবে এসেছে ভেবে।

দুই:

ভূল করে সারা রাত্রি বাইরে মেলে রাখা হিমের চাদরের মতো শেষরাতের রাস্তা ক্রমশঃ পায়ের সামনে জমিয়ে রাখতে থাকে নিচু নিচু পাহাড়। স্ট্রেইট ডাউন যাইয়ে, ছাড়িয়ে একটু এগোলেই ডানদিকে থাকে থাকে সিঁড়ি উঠে গ্যাছে দ্যাখা যেতে থাকে আর আরও অনেক সামনে অন ইওর লেফট সাইড ইউ উইল ফাইন্ড দা বোর্ড ব’লে মাথায় সাদা কাপড় জড়িয়ে নিয়ে আগে আগে হেঁটে যেতে থাকে নরম নরম রাস্তা। তখনো ভোর হয় নি ব’লে তার রঙ মনে হতে থাকে বাষ্পের মতো হলুদ অথচ একটু ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব পেতে পারেন ব’লে সঙ্গে দু’একটা হাল্কা গরম জামা বা উইনচিটার রাখা ভালো।

তিন:

পাথুরে চাতালের মতো ছড়ানো রোদ্দুর পেরোতেই ভেসে আসে তিব্বতী গুম্ফার আদল আর অজানা বাদ্যযন্ত্র ও গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণের সমবেত স্বরগুলি মনে হতে থাকে মৃদু চোখে প্রাণপণ ছুঁয়ে আছে দূরবর্তী পাহাড়ের ভিজে ভিজে বাঁক। তাদের কাঁধে ও মেরুন পোষাকে ঝুরো ঝুরো তুষারের স্মৃতি নিয়ে বাধ্য বালকের মতো ঠা ঠা রোদে ছোটাছুটি করতে থাকে থাকে থাকে পুরনো পুঁথি ও থাংকার হল্দে হয়ে আসা ভঙ্গুর বিবর্ণতা আর বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গগুলি বৃদ্ধের মুখ থেকে আবছা গল্পের মতো বেরিয়ে এসে একে একে ঝুলে থাকে ফ্রেমে বাঁধানো ছোটো ছোটো দেওয়ালে। অথচ একটু দূরেই অগভীর জলে পায়ের পাতা ঈষৎ ডুবিয়ে শ্যাওলাঢাকা নিশ্চিন্ত পাথরেরা অদৃশ্য হাতিদের পোষমানা শিকলের শব্দে মগ্ন হয় প্রেমে ও পিকনিকে আর তাদের ঠান্ডা হাওয়া ও বুনো আমের গন্ধ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে গুম্ফার ছবিতে যেখানে চারজন আকাশপ্রতিম দেবতা তাদের সোনার অঙ্গে মেখে নেয় ভ্রমনপিপাসু মোমবাতিদের বিষ্মিত চোখ আর খুলে রাখা জুতো।

চার:

বিকেল নাগাদ জলপ্রপাত চলে যেতে পারেন ঠিক শহর ছাড়িয়েই যেখানে ঢালু হয়ে নেমে গ্যাছে কফিক্ষেত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত গোলমরিচের ঘ্রাণ আর মৃদু মৃদু ফার্ণেদের শরীরে জলকণা জমে থাকা আঙুলের ঈষৎ ছোঁওয়াতেই ঝরে পড়ছে টুপ্ টুপ্ মাটি ও পুরনো পাতায়। কাফি-টি-কোলডিঙ্ক আর সিগারেটের দোকানে জড়ানো হাল্কা গেটের মতো বিজ্ঞপ্তি পেরোলেই দেখা যাচ্ছে ধাপে ধাপে সিঁড়ির মতো পা নেমে গ্যাছে বহু নীচে আর পড়ন্ত জলের শব্দে সেখানে লোহাটে ব্রীজের উপরে ঝুলে রয়েছে ভারী শ্যাওলার মতো মেমটুপিদের গান ও গল্পগাছা। ব্যাস্ এখানেই এরকম বসে বা দাঁড়িয়ে থেকে ইতস্ততঃ ঘুরে দেখে নিতে পারেন জলেদের প্রকাশ্য চান ও পাথর, আর সটান বৃক্ষসকলের জলছবি আলোয় আপনি চুপচুপে গেলে বুঝতে পারবেন স্থানীয় ড্রাইভারের চোখ এবারে চেপে বসবে উইন্ডস্ক্রীনের সরু সরু অন্ধকার বাঁকে। রোজকার কুয়াশার পাশাপাশি তার টায়ারের দাগ ঝুঁকে ফিরবে শহরের দিকে আর সিনেমার গানের সঙ্গে তাল দিতে থাকবে লাল-কালো স্টীয়ারিং-এর খুশী খুশী শিস্।

সামহো্য়্যারইন ও একটি বাংলা ব্লগকথা

Tuesday, March 6th, 2007

শমিত অনলাইন ডট নেটে এই ‘একটি বাংলা ব্লগ’-এর শুরুতেই নিশান রাখা যায় সামহো্য়্যারইন ডট নেটে বানানো আমার প্রথম ব্লগ-বাহাদুরী একটি বাংলা ব্লগকথার, যা প্রকৃত প্রস্তাবে ছিলো একটি বাংলা ব্লগবস্তু, যা সম্ভাবনায় নীল কালিতে অপেক্ষা করতো আমাদের মগজ দোয়াতে

একটি বাংলা ব্লগকথা 25 শে মার্চ 2006-এ শুরু করে, প্রথমদিন শুধু অনলাইন বাংলা টাইপ করার আনন্দে একটি আধা খ্যাঁচড়া লেখা পোস্ট ক’রে ফেলি। তখন টাইটেল কি ছিলো তা’ মনে নেই, তবে পরে তাল মেলাতে সাধ ক’রে নাম রেখেছিলুম ‘বাংলা কথা 01′। সাইজে মিনি হ’লেও, লেখাটি কিন্তু ম্যাক্সি মানে তত্বকথায় পূর্ণ ছিলো এবং বেশ ভারীমাপের তত্ব। এমনকি সাহিত্য তত্বও বলা যায়, ঝেড়ে কাশতে হ’লে। ফলে, পরবর্তীকালে যখন ‘ফাওবাদ’ আমার মগজে-মহল্লায় বেশ জনপ্রিয় হ’য়ে ওঠে এবং ‘ফাওবাদ’-এর প্রথম ইস্তাহার ‘ফাও কথা’-র প্রণয়ন ও প্রচার হয়, তখন এই ‘বাংলা কথা 01′ নামক তত্বকথাটি এঁচোড়ে-পাকা দাড়ির মতো খপ করে ইস্তাহারে ঢুকে পরে, ফাঁক বুঝে। লেখটি এখানে টুকে ফেলা যায়, আর্কাইভিং-এর দোহাই দিয়ে। পাঠক বুঝলে পড়বে। না বুঝলে, আমি বলবো ‘গামবাট, কিস্যু বোজে না’ আর পাঠক বলবে ‘বাল লিখেছো, শালা আঁতেল’! কারোর কিছুই যাবে-আসবে না।

বাংলা কথা 01

আজ থেকে গতকাল বহুকাল বহুদিন সরু ও শীর্ণ হয় এ বাবদ সরু সব কবিতার দেহ যেন সরু এক মডেল কোনো তন্বী র‌্যাম্পে সরু সুতোয় ক্যাটওয়াকে সরু হাঁটছে সরু সরু পায়ে শুধু সরু ও দীর্ঘায়িত শীর্ণ শরীরে সারি সারি কবিতা আমাদিগের বাক্সবন্দী সহস্র বছর ধরে সরু পংক্তিরাজির শীর্ণ দীর্ঘায়নে সরু ও লম্বা হয় ব’লে ঢ্যাঙা কিশোরীর মতো কবিতা নিয়োগী আমাদিগের কিশোর চোখে এক সরু ও ক্ষীণকটী ঋতু হ’য়ে ওঠে টিউশনিফেরৎ যার স্তন চুরি হ’য়ে যায় মফঃস্বল বারান্দায়। ফলতঃ কবিতা নামক সকল মানুষ-ই দেখা যায় নারী ও সে প্রসঙ্গেই সরু ও সুতোর মতো ক্যাটওয়াক এসে পরে সরু র‌্যাম্পে সরু আলোর মাঝে ঘোরাফেরা ক’রে সরু সরু কবিতামডেল - রোগা ও নিপাট দেহ …

[উপরোল্লিখিত গদ্যাংশটি পরবর্তী কালে ‘ফাও কথা’ নামক গদ্যসংগ্রহের অন্তর্ভূক্ত হয়। ‘ফাও কথা’ পড়া যেতে পারে এইখানে ক্লিক করে »]

পস্ট বোঝা যায় যে এই বাণীটি পোস্ট হিসেবে যে মুহূর্তে ঝেড়েছিলুম, তখনও পজ্জন্ত ব্লগবস্তুর আসল চেহারাটির সম্যক উপলব্ধি আমার হয় নি। ফলে ঐ দিনই, ঠিক পর পরই, আলটপকা আরেকটা থিওরী টপকে দিই ঘিপ ক’রে। বিষয়, দৃশ্যকবিতা। টাইটেল, দৃশ্যকবিতা কি? তবে, থিওরী টপকানোর আসল কারণ ছিলো অন্য। ব্লগবাজারের রীতি-রেওয়াজের আঁচ পাই নি তখনও সেফ খেলছি, এদিক ওদিক দু’এক পিস ঠান্ডা মেওয়ার মতো বাকতাল্লা মারাটা বেশ সুবিধাজনক। তাছাড়া, থিওরীর পাকা দাড়িতে হাত বুলানোর ভারি সুযোগ। এদিকে ঠিকও করে ফেলেছি, এর পরই কয়েকটা দৃশ্যকবিতা ছাড়বো। তার গ্রাউন্ডওয়ার্ক টাও হয়ে খাকবে এরকমই ভাবা।

দৃশ্যকবিতা কি?

আসলে অক্ষরের দৃশ্যগত অভিঘাত আর দৃশ্যের ভাষানির্ভর অক্ষরীকরণের বিষয়নির্দিষ্ট মিশ্রণের অনুপাতকে নিয়েই গড়ে ওঠে একজন দৃশ্যকবিতা। মনে হয় কখনো কখনো হরফের দৃশ্যগত উপাদানগুলি একের পর এক জুড়ে জুড়ে গড়ে তুলবে হরফসমষ্টির সামগ্রিক অর্থ ছুঁয়ে থাকা এক ছবি যার দৃশ্যগুলি আবার একটু একটু করে হয়ে উঠবে এক একটি অক্ষর যা জমে জমে শব্দ আর শব্দ জমে জমে এক স্বনির্ভর বাক্যচেতনা যেখানে প্রথম জন্ম নেবে কোনো দৃশ্য কিম্বা হয়তো শেষ বলেও ডাকা যাবে তাকে।

ভিতরের কথা হ’লো, প্রথম দুটি পোস্টই ছিলো পুরনো মাল। বাংলা টাইপ মকশো করার নামে, বেমালুম নিজের পুরোনো বাতিল ফোল্ডার থেকে ঝেঁপে দিয়েছিলুম, দুগ্গা ব’লে। তবে, নিজের লেখা নিজেই টুকেছিলাম । তাই গ্লানি কম, ঘ্যাম বেশী ছিলো। এই পঁচিশ তারিখই, এরপর তাকমাফিক আমার তিনটে বস্তাপচা দৃশ্যকবিতা গলিয়ে দিয়েছিলাম আস্তে। তখনো এলাকা চুপচাপ; পেটোবাজির আগে শান্ত বিড়ি খাওয়ার মতো -

পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: এক »
পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: দুই »
পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: তিন »

26শে মার্চ তারিখে সামহো্য়্যারইনের বাংলা ব্লগকথায় সর্বপ্রথম একটি মৌলিক লেখা লিখে ফেলি বিড়ালের শিকের মতো। লেখাটি ব্লগ নিয়ে বাংলায় আমার প্রথম সচেতন রচনাও বটে। লেখাটির নাম ‘ব্লগঋতু ব্লগপাখি’ এবং লেখাটি নিম্নরূপ:

ব্লগঋতু ব্লগপাখি

স্ক্রিন আঙিনায় প্রথম ব্লগঋতু এলে ব্লগ পাখিরা উড়ে এসে বসে আমার টাস্কবারে কিচিমিচি হয় খুব যেন খুব সকালে বড় গাছের নিচ দিয়ে লেকপাড়ার হাঁটাহাঁটি শুরু হলে প্রকৃত পাখির মতো আমার দিন শুরু হয় boot মন্ত্রে নানাবিধ ব্লগপাখি ব্লগডাল থেকে আমার টাস্কবারে আসে, ডাকে, এই ব্লগঋতু এলে।

একটি বাংলা ব্লগের ভূমিকা

Tuesday, March 6th, 2007

বাংলা ব্লগ বানানোর মতলবটা আমার বহুদিনের। ফলে, ‘একটি বাংলা ব্লগ‘ ধরাধামে, থুড়ি নেটধামে আবির্ভূত হওয়ার ঢের আগেই, 2007-এর শুরুর দিকে, আমার কী-বোর্ড চুলকোতে শুরু করে এবং আমি এই অজাত, অনাগত ‘একটি বাংলা ব্লগ‘-এর জন্য একটি ভূমিকা বা ভাণপত্র লিখে রাখি আগে-ভাগে; হওয়ার আগেই ছেলের নাম বৃন্দাবন রাখার মতো। এখন, যখন ‘একটি বাংলা ব্লগ‘-এর কচি কচি ন্যাজ শিং দাড়ি ও খুর গজাতে শুরু করেছে, তখন সে ভূমিকা এখেনে টুকে না রাখার কোনো মানেই হয় না।

শমিতঅনলাইন ডট নেট: ‘একটি বাংলা ব্লগ’ আমার ব্যক্তিগত বাংলা ব্লগ। আমার নিজের লেখালিখি-ঘষাঘষির ঢেঁড়া পেটানো; আমার ভালো লাগা কিছু বাংলা মাল, বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎচিন্তায় আমার নিদ্রাহীনতার ধারাবিবরণী; আমার বাংলা ভাষাবোধের গঠন ও ভূপ্রকৃতি; আমার শব্দচেতনার এলোখোঁপা; আমার কুর্ণিশচিৎকার; আমার হরফকাহিনীর ভাঁজে রাখা সাদা বুকমার্ক - এইসব, এ-ই সব, হিজিবিজি ও বালছাল টুকে রাখার জন্যই এত ঘটা, এত ঘ্যাম, এত খেটেখুটে এইসব ঢপের নির্মাণ।

বলা বাহুল্য, এই পিসটি নামিয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছিলুম। মনে হয়েছিলো, ন্যাজে গোলাপফুল ফুটেছে।

ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা ব্লগ

Monday, March 5th, 2007

অবশেষে আমারও একটি ইউনিকোডে লেখা বাংলা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ হলো। ধন্যবাদ হাসিন হায়দার, একুশে ডট অরগওয়ার্ডপ্রেসকে

ওয়ার্ডপ্রেস-এ একটা ইউনিকোড বাংলা ব্লগ আলাদাভাবে শুরু করবো একথা অনেকদিনই। আর ভাবতে ভাবতে রোজই দেখি বেলা গড়িয়ে এক একটি কাঁদো কাঁদো বিকেল আর বিকেল গড়িয়ে দেখি ঠান্ডা বীয়ারমাগের গা দিয়ে টুপ টুপ ক’রে এক একটি সন্ধের ফোঁটা নেমে আসে ভেংকটেশ্বরা ওয়াইন শপের খাবলানো টেবিলে। ফলতঃ পৃথক ডোমেইনগিরির আদুরে প্যাচাল বাদ আর হাসিন হায়দার ভাই, সঙ্গে একুশে ডট অরগ কে একশ’ সালাম দিয়ে এখানেই মানে এই শমিত অনলাইনের বারোয়ারী ওয়ার্ডপ্রেস বারান্দাতেই ব্লগ বাওয়ালীর বাংলা খাতা খুলে ফেলা যায় আপাততঃ।

শ্রদ্ধেয় হাসিন হায়দার ভাই ওয়ার্ডপ্রেসে ইউনিকোড বাংলা লেখার জন্য যে চমৎকার প্লাগইনটি বানিয়েছেন, তা দিয়ে ইউনিজয় ও ফোনেটিক দুই প্রকার কী-বোর্ড বিন্যাসেই সহজে বাংলা লিখে ফেলা যায় ওয়ার্ডপ্রেসের পোস্টবাক্সে। ওয়ার্ডপ্রেসে ইউনিকোডে বাংলা লেখার এই প্লাগইনটি ডাউনলোড করা যেতে পারে এইখানে

সুবিধার কথা, এই প্লাগইনটি ব্যবহার করার জন্য কোনো আলাদা ফন্ট ইনস্টল করার প্রয়োজন পরে না। প্লাগইনটি ডাউনলোড করে, প্রথমে সেটিকে আনজিপ করতে হবে এবং তারপর সম্পুর্ণ ফোল্ডারটিকে আপলোড করতে হবে ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগইন ডিরেক্টরিতে, অন্যান্য ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনের মতোই। এবার ওয়ার্ডপ্রেসের কন্ট্রোল প্যানেলের Plugin বিভাগে গিয়ে BanglKB - এই প্লাগইনটিকে চালু করে দিতে হবে। এর পর, Users বিভাগের ভিতরে Your Profile উপবিভাগে গিয়ে “Use the visual editor when writing” এই সুবিধাটিকে uncheck অর্থাৎ বন্ধ করে দিতে হবে। ব্যস, ওয়ার্ডপ্রেসে বাংলা লেখার কল তৈরী।

একুশে ডট অর্গের এই পাতায় এ বিষয়ে আরো বিশদ বর্ণনা ও নির্দেশাবলী আছে। প্লাগইনটি চালু করার জন্য ও ব্যবহার করার জন্য সেগুলি এক-দু’বার পড়ে্ নেওয়া ভালো।