গুরু তোমায় … (সটীক সংস্করণ)
Wednesday, August 8th, 2007ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি, প্রতি বছর, এই চোত-বোশেখ মাস এলে, দুনিয়ার লিটল ম্যাগাজিন, কালচার শপ ও আন্ডাবাচ্চাদের মধ্যে ভারি ঢলো-ঢলো ভাব হয়। আমি এদের কোনোটিই নই। তাই, বোশেখ মাসের পঁচিশ তারিখ কত্তাবাবুর আবির্ভাব হেতু আহ্লাদ করতে করতে নেজ নাড়ি নি কোনোদিনই। তবে বয়সকালে, খোঁপায় ফুলআঁটা তাঁতের শাড়ি দেখতে দু’একবার খোদ এলাকায় যে ভোরবেলায় ঢুঁ মারি নি, একথা হলপ ক’র বলতে পারবো না। কিন্তু সে আমলে, আমার থোবর থেকে হাওয়াই চটির সেপটিপিনে পজ্জন্ত এমন ছ্যাবলা ছ্যাঁচরামীর ছাপ লেগে থাকতো যে ফুলেল তাঁতের শাড়ী তো দুর অস্ত, এক পিস চৈত্র সেলের ছাপা শাড়ীও তখন আমার জোটে নি। কিছুটা সেই রাগেই, আর কিছুটা বিপ্লবের খাতিরে, আমি ক্লাস এইটের পরে আর কত্তাবাবার জন্মতিথি নিয়ে কোনো লেখালিখি বা কেত-কায়দা মারি নি। অবিশ্যি একবার একটা লেখায় বাঙালী বণিকের জাহাজ, পুরণো বাড়ি আর নমস্কার করার কথা ছিলো ব’লে, একটি পত্রিকা সেটিকে তাদের পঁচিশে বৈশাখ ইস্যুতে ছেপে দেয়। এ ঘটনায় আমার কোনো হাত ছিলো না। এর অনেক পরে, এই 2007 সালের পঁচিশে বৈশাখ দিবসে, তাঁতি সর্বপ্রথম ভেবে চিন্তে একটি এঁড়ে গোরু নিয়ে আসে। এঁড়ে গোরুটির হাতে হ্যান্ডহেল্ড, মুখে স্মাইলি ও তার চেহারাটি নিম্নরূপ:
গুরু, তোমায় ..
গুরু, তোমার জন্মদিনে পিঁক পিঁক এসেমেস পেলে মজা পাই আর পিন্ডদানের পাথরে বিষ্ঠার কারুকার্য দেখে মনে পড়ে আমাদের হাফপাত্লুন সকালগুলির মিহি ও অস্পষ্ট ধুয়ো ধরার কথা। মনে পড়ে গান ও গুঁতো গিলে খাওয়ার কোঁত্ কোঁত্ শব্দে সারা পাড়া কেমন মাথায় উঠতো রোজ ভোর ও বিকেলে। টুকে লেখা চিঠিও মনে পড়ে, মনে পড়ে কানহীন মানুষের ছবিতে ক্যামন ভরে যেত আমাদের দখিনো দুয়ার, জীবনো যৌবনো, ভরা বসন্তেরো কাল।*
ভালো থেকো গুরু, আলমারী ও ব’য়ের তাকে, দেয়ালে, আমাদের মাথার ভেতর।
*পরবর্তীকালে, “মনে পড়ে গান ও গুঁতো গিলে খাওয়ার কোঁত্ কোঁত্ শব্দে সারা পাড়া কেমন মাথায় উঠতো রোজ ভোর ও বিকেলে। টুকে লেখা চিঠিও মনে পড়ে, মনে পড়ে কানহীন মানুষের ছবিতে ক্যামন ভরে যেত আমাদের দখিনো দুয়ার, জীবনো যৌবনো, ভরা বসন্তেরো কাল।” - এই লাইনগুলি আমার ভারী প্রিয় হয়ে ওঠে।