বালিকার জন্য চিরকুটগুলি
Saturday, April 12th, 2008বালিকার জন্য চিরকুটগুলি
[২০০৮]
চিরকুট ১
এখন সন্ধ্যে নামার আয়োজন অ্যাসফাল্ট শহর জুড়ে এক অটোমোবিল কনসার্ট এখন প্রস্তুতিপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঢিক্ ঢিক্ সাউন্ডচেকের তালে তালে হাল্কা কোমরদোলানি। ফলতঃ অসংযত সকালের টানা দুপুর পেরিয়ে এ পড়ন্ত বিকেলভূমিতেও যে বালিকাটি লঘুপদে ছোটাছুটি, অহংকারী ভ্রূ-রেখা ও জেদী গ্রীবার বাঁকে এসে সেও একটি হলুদ নাকছাবি ক্রমে অ্যালবামে ও জানালায়।
চিরকুট ২
পাশাপাশি দু’একটি হরফ ছুঁয়ে ফেলতেই শব্দ হারিয়ে যায় ও যা নেমে আসে তা বৃত্তবৎ মুখের হলুদে একটি সার্বজনীন হাসি ও লাল জিভের বাঁকা দাগ। বাকীটুকু বিন্দুবৎ, শুধু কী-বোর্ডের খেলা। এভাবেই আজকাল কথোপকথন হয়, পাঁচ বা সাত খন্ডে।
চিরকুট ৩
কিছু কিছু অস্থিরতা হয় যাদের নাম হয় না ও চেহারাও পরিচয়হীন। সন্ধ্যে সিরিয়ালের ফাঁকা বাতাসে কোনো মুখরা বালিকার ছবি ছেপে এলে শুধু তাদের অবয়ব চোখে পড়ে। আবছা, ফলতঃ অনুসঙ্গহীন।
চিরকুট ৪
তখন ট্রামরাস্তা, দুপুরের ঝিম ফাঁকা বাসের সীটেও পরানো থাকতো জাদুজুতোর হাততালি আর হুশ্ বলতেই পৌঁছে যাওয়া যেতো বউবাজার থেকে পার্ক স্ট্রীট; শ্যামবাজার, গোলপার্ক, বরানগর, এন্টালি হয়ে কলেজচত্বরে। পালক ও চামড়ার ডানাগুলি ফুটবোর্ডে, মেট্রোমহলে সারি সারি সাজানো থাকতো যেন কতগুলি জিন্সের হাঁটু; এখনি শাট্ল ট্যাক্সির পেছনের সীটে বসে গুছিয়ে নেবে নিজেদের প্রাপ্য জায়গা, গুঁতো। এক চরকিবাজির গপ্পো শুনে আজ হঠাৎ এইসব মনে পড়ে।
চিরকুট ৫
অক্ষরগুলি আঙ্গুল ছুঁতেই এক একটি বুদবুদ শান্ত স্ক্রীনজলে কাঁপন তোলে আর এক একটি ‘ডিং’ শব্দে সারাদিন লা লা লা। কথাচ্ছলে এইসব খেলা জমে, অক্ষরে অক্ষরে। (যেন) পরিত্যক্ত রানওয়ে শেষে দেখা যায় একটি সাইকেল, আইসক্রীম বাক্সের গায়ে হাতেআঁকা লালফ্রক, বিনুনির ছবি।
চিরকুট ৬
ধরো একটি ভ্রূ-কুয়াশায় হাত পাততেই চারিদিকে অক্ষরের জাদুঘর। আর চটিচ্ছলে গলিয়ে নিচ্ছো বলে ধরে নাও কোনও অচেনা লাল রোয়াক; অনেকগুলি গাছপাথর পেরিয়ে আসা লেকবিকেলের বাদামকোলাহল; তোমার ও তোমার উৎপলদার ব্যক্তিগত লিখনভঙ্গিমাও। আসলে তোমার এখন কোথাও যাওয়ার কথা নেই
। তোমার তালুতে মুঠোতে এখন এক বোতামআঁটা ম্যাজিকবাক্স খোলা।
চিরকুট ৭
রাত্রে, আজকাল গান গাইতে আসেন মুখতিয়ার আলি আর সুফিয়ানা কালামের শামিয়ানা জুড়ে পুগাল গ্রামের বাতাস এ স্ক্রীনজীবনের ছবিগুলিকে বড় এলোমেলো ক’রে দেয়।
আমাদিগের ভারি মন ক্যামন করে!