Posts Tagged ‘Somewherein’

সামহো্য়্যারইন ও একটি বাংলা ব্লগকথা

Tuesday, March 6th, 2007

শমিত অনলাইন ডট নেটে এই ‘একটি বাংলা ব্লগ’-এর শুরুতেই নিশান রাখা যায় সামহো্য়্যারইন ডট নেটে বানানো আমার প্রথম ব্লগ-বাহাদুরী একটি বাংলা ব্লগকথার, যা প্রকৃত প্রস্তাবে ছিলো একটি বাংলা ব্লগবস্তু, যা সম্ভাবনায় নীল কালিতে অপেক্ষা করতো আমাদের মগজ দোয়াতে

একটি বাংলা ব্লগকথা 25 শে মার্চ 2006-এ শুরু করে, প্রথমদিন শুধু অনলাইন বাংলা টাইপ করার আনন্দে একটি আধা খ্যাঁচড়া লেখা পোস্ট ক’রে ফেলি। তখন টাইটেল কি ছিলো তা’ মনে নেই, তবে পরে তাল মেলাতে সাধ ক’রে নাম রেখেছিলুম ‘বাংলা কথা 01′। সাইজে মিনি হ’লেও, লেখাটি কিন্তু ম্যাক্সি মানে তত্বকথায় পূর্ণ ছিলো এবং বেশ ভারীমাপের তত্ব। এমনকি সাহিত্য তত্বও বলা যায়, ঝেড়ে কাশতে হ’লে। ফলে, পরবর্তীকালে যখন ‘ফাওবাদ’ আমার মগজে-মহল্লায় বেশ জনপ্রিয় হ’য়ে ওঠে এবং ‘ফাওবাদ’-এর প্রথম ইস্তাহার ‘ফাও কথা’-র প্রণয়ন ও প্রচার হয়, তখন এই ‘বাংলা কথা 01′ নামক তত্বকথাটি এঁচোড়ে-পাকা দাড়ির মতো খপ করে ইস্তাহারে ঢুকে পরে, ফাঁক বুঝে। লেখটি এখানে টুকে ফেলা যায়, আর্কাইভিং-এর দোহাই দিয়ে। পাঠক বুঝলে পড়বে। না বুঝলে, আমি বলবো ‘গামবাট, কিস্যু বোজে না’ আর পাঠক বলবে ‘বাল লিখেছো, শালা আঁতেল’! কারোর কিছুই যাবে-আসবে না।

বাংলা কথা 01

আজ থেকে গতকাল বহুকাল বহুদিন সরু ও শীর্ণ হয় এ বাবদ সরু সব কবিতার দেহ যেন সরু এক মডেল কোনো তন্বী র‌্যাম্পে সরু সুতোয় ক্যাটওয়াকে সরু হাঁটছে সরু সরু পায়ে শুধু সরু ও দীর্ঘায়িত শীর্ণ শরীরে সারি সারি কবিতা আমাদিগের বাক্সবন্দী সহস্র বছর ধরে সরু পংক্তিরাজির শীর্ণ দীর্ঘায়নে সরু ও লম্বা হয় ব’লে ঢ্যাঙা কিশোরীর মতো কবিতা নিয়োগী আমাদিগের কিশোর চোখে এক সরু ও ক্ষীণকটী ঋতু হ’য়ে ওঠে টিউশনিফেরৎ যার স্তন চুরি হ’য়ে যায় মফঃস্বল বারান্দায়। ফলতঃ কবিতা নামক সকল মানুষ-ই দেখা যায় নারী ও সে প্রসঙ্গেই সরু ও সুতোর মতো ক্যাটওয়াক এসে পরে সরু র‌্যাম্পে সরু আলোর মাঝে ঘোরাফেরা ক’রে সরু সরু কবিতামডেল - রোগা ও নিপাট দেহ …

[উপরোল্লিখিত গদ্যাংশটি পরবর্তী কালে ‘ফাও কথা’ নামক গদ্যসংগ্রহের অন্তর্ভূক্ত হয়। ‘ফাও কথা’ পড়া যেতে পারে এইখানে ক্লিক করে »]

পস্ট বোঝা যায় যে এই বাণীটি পোস্ট হিসেবে যে মুহূর্তে ঝেড়েছিলুম, তখনও পজ্জন্ত ব্লগবস্তুর আসল চেহারাটির সম্যক উপলব্ধি আমার হয় নি। ফলে ঐ দিনই, ঠিক পর পরই, আলটপকা আরেকটা থিওরী টপকে দিই ঘিপ ক’রে। বিষয়, দৃশ্যকবিতা। টাইটেল, দৃশ্যকবিতা কি? তবে, থিওরী টপকানোর আসল কারণ ছিলো অন্য। ব্লগবাজারের রীতি-রেওয়াজের আঁচ পাই নি তখনও সেফ খেলছি, এদিক ওদিক দু’এক পিস ঠান্ডা মেওয়ার মতো বাকতাল্লা মারাটা বেশ সুবিধাজনক। তাছাড়া, থিওরীর পাকা দাড়িতে হাত বুলানোর ভারি সুযোগ। এদিকে ঠিকও করে ফেলেছি, এর পরই কয়েকটা দৃশ্যকবিতা ছাড়বো। তার গ্রাউন্ডওয়ার্ক টাও হয়ে খাকবে এরকমই ভাবা।

দৃশ্যকবিতা কি?

আসলে অক্ষরের দৃশ্যগত অভিঘাত আর দৃশ্যের ভাষানির্ভর অক্ষরীকরণের বিষয়নির্দিষ্ট মিশ্রণের অনুপাতকে নিয়েই গড়ে ওঠে একজন দৃশ্যকবিতা। মনে হয় কখনো কখনো হরফের দৃশ্যগত উপাদানগুলি একের পর এক জুড়ে জুড়ে গড়ে তুলবে হরফসমষ্টির সামগ্রিক অর্থ ছুঁয়ে থাকা এক ছবি যার দৃশ্যগুলি আবার একটু একটু করে হয়ে উঠবে এক একটি অক্ষর যা জমে জমে শব্দ আর শব্দ জমে জমে এক স্বনির্ভর বাক্যচেতনা যেখানে প্রথম জন্ম নেবে কোনো দৃশ্য কিম্বা হয়তো শেষ বলেও ডাকা যাবে তাকে।

ভিতরের কথা হ’লো, প্রথম দুটি পোস্টই ছিলো পুরনো মাল। বাংলা টাইপ মকশো করার নামে, বেমালুম নিজের পুরোনো বাতিল ফোল্ডার থেকে ঝেঁপে দিয়েছিলুম, দুগ্গা ব’লে। তবে, নিজের লেখা নিজেই টুকেছিলাম । তাই গ্লানি কম, ঘ্যাম বেশী ছিলো। এই পঁচিশ তারিখই, এরপর তাকমাফিক আমার তিনটে বস্তাপচা দৃশ্যকবিতা গলিয়ে দিয়েছিলাম আস্তে। তখনো এলাকা চুপচাপ; পেটোবাজির আগে শান্ত বিড়ি খাওয়ার মতো -

পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: এক »
পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: দুই »
পুরনো পেটো শান্ত বিড়ি: তিন »

26শে মার্চ তারিখে সামহো্য়্যারইনের বাংলা ব্লগকথায় সর্বপ্রথম একটি মৌলিক লেখা লিখে ফেলি বিড়ালের শিকের মতো। লেখাটি ব্লগ নিয়ে বাংলায় আমার প্রথম সচেতন রচনাও বটে। লেখাটির নাম ‘ব্লগঋতু ব্লগপাখি’ এবং লেখাটি নিম্নরূপ:

ব্লগঋতু ব্লগপাখি

স্ক্রিন আঙিনায় প্রথম ব্লগঋতু এলে ব্লগ পাখিরা উড়ে এসে বসে আমার টাস্কবারে কিচিমিচি হয় খুব যেন খুব সকালে বড় গাছের নিচ দিয়ে লেকপাড়ার হাঁটাহাঁটি শুরু হলে প্রকৃত পাখির মতো আমার দিন শুরু হয় boot মন্ত্রে নানাবিধ ব্লগপাখি ব্লগডাল থেকে আমার টাস্কবারে আসে, ডাকে, এই ব্লগঋতু এলে।